সূরা কাহাফ পবিত্র কুরআন মাজিদের ১৮তম সূরা। এটি একটি মাক্কী সূরা (অর্থাৎ এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে)। এই সূরার মোট আয়াত সংখ্যা ১১০টি। "কাহাফ" শব্দের অর্থ— গুহা। এই সূরায় গুহাবাসীদের (আসহাবে কাহাফ) অলৌকিক ঘটনা আলোচনা করার কারণে এর নামকরণ করা হয়েছে সূরা কাহাফ। নিচে সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াতের আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অনুবাদ ও ফজিলত তুলে ধরা হলো।
সূচিপত্র
- সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াত সম্পর্কে কিছু কথা।
- সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াতের আরবি
- সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াতের বাংলা উচ্চারণ
- সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াতের বাংলা অনুবাদ
- সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াতের PDF ডাউনলোড
- সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াতের ফজিলত
- সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াত কখন পড়বেন?
- FAQ
সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াত সম্পর্কে কিছু কথা।
পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অলৌকিক সুসংবাদ সমৃদ্ধ একটি সূরা হলো সূরা কাহাফ। দৈনন্দিন জীবনে আখিরাতের প্রস্তুতি এবং দাজ্জালের ফেতনা থেকে আত্মরক্ষার জন্য এই সূরার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে সূরা কাহাফের শেষ ১০টি আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা মানুষের আমলের বাস্তবতা, অহংকার ও পথভ্রষ্টতার পরিণতি এবং ঈমানদারদের জন্য জান্নাতুল ফেরদাউসের সুসংবাদ অত্যন্ত সাবলীল ও কঠোর ভাষায় বর্ণনা করেছেন। হাদিস শরিফেও এই শেষ আয়াতগুলোর বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে। নিচে এই বরকতময় আয়াতগুলোর আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও আমলি ফজিলত আলোচনা করা হলো।
সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াতের আরবি
اۨلَّذِيۡنَ كَانَتۡ اَعۡيُنُهُمۡ فِىۡ غِطَآءٍ عَنۡ ذِكۡرِىۡ وَكَانُوۡا لَا يَسۡتَطِيۡعُوۡنَ سَمۡعًا ١٠١
اَفَحَسِبَ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡۤا اَنۡ يَّتَّخِذُوۡا عِبَادِىۡ مِنۡ دُوۡنِىۡۤ اَوۡلِيَآءَ ؕ اِنَّاۤ اَعۡتَدۡنَا جَهَـنَّمَ لِلۡكٰفِرِيۡنَ نُزُلًا ١٠٢
قُلۡ هَلۡ نُـنَبِّئُكُمۡ بِالۡاَخۡسَرِيۡنَ اَعۡمَالًا ؕ ١٠٣
اَ لَّذِيۡنَ ضَلَّ سَعۡيُهُمۡ فِى الۡحَيٰوةِ الدُّنۡيَا وَهُمۡ يَحۡسَبُوۡنَ اَنَّهُمۡ يُحۡسِنُوۡنَ صُنۡعًا ١٠٤
اُولٰۤٮِٕكَ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا بِاٰيٰتِ رَبِّهِمۡ وَلِقَآٮِٕهٖ فَحَبِطَتۡ اَعۡمَالُهُمۡ فَلَا نُقِيۡمُ لَهُمۡ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ وَزۡنًـا ١٠٥
ذٰلِكَ جَزَآؤُهُمۡ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوۡا وَاتَّخَذُوۡۤا اٰيٰتِىۡ وَرُسُلِىۡ هُزُوًا ١٠٦
اِنَّ الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ كَانَتۡ لَهُمۡ جَنّٰتُ الۡفِرۡدَوۡسِ نُزُلًا ۙ ١٠٧
خٰلِدِيۡنَ فِيۡهَا لَا يَـبۡغُوۡنَ عَنۡهَا حِوَلًا ١٠٨
قُلْ لَّوۡ كَانَ الۡبَحۡرُ مِدَادًا لِّـكَلِمٰتِ رَبِّىۡ لَـنَفِدَ الۡبَحۡرُ قَبۡلَ اَنۡ تَـنۡفَدَ كَلِمٰتُ رَبِّىۡ وَلَوۡ جِئۡنَا بِمِثۡلِهٖ مَدَدًا ١٠٩
قُلۡ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثۡلُكُمۡ يُوۡحٰٓى اِلَىَّ اَنَّمَاۤ اِلٰهُكُمۡ اِلٰـهٌ وَّاحِدٌ ۚ فَمَنۡ كَانَ يَرۡجُوۡا لِقَآءَ رَبِّهٖ فَلۡيَـعۡمَلۡ عَمَلًا صَالِحًـا وَّلَا يُشۡرِكۡ بِعِبَادَةِ رَبِّهٖۤ اَحَدًا ١١٠
সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াতের বাংলা উচ্চারণ
১০১. আল্লাযীনা কা-নাত্ আ'ইউনুহুম্ ফী গিতা-ইন ‘আন যিকরী ওয়া কা-নূ লা ইয়াছতাতী'ঊনা ছাম'আ।
১০২. আফা হাছিবাল্লাযীনা কাফারূ~ আই ইয়াত্তাখিযূ ‘ইবাদী মিং দূনী~ আওলিয়া-আ, ইন্না~ আ’তাদনা- জাহান্নামা লিলকা-ফিরীনা নুঝুলা।
১০৩. কুল্ হাল নুনাব্বিউকুম বিলআখছারীনা আ'মা-লা।
১০৪. আল্লাযীনা দ্বাল্লা ছা'ইউহুম ফিল হায়াতিদ্ দুনইয়া- ওয়াহুম ইয়াহছাবূনা আন্নাহুম ইউহছিনূনা সুন'আ।
১০৫. উলা-ইকাল্লাযীনা কাফারূ বিআ-য়া-তি রাব্বিহিম ওয়ালিকা-ইহী ফাহাবিতাত আ'মা-লুহুম ফালা- নুকীমু লাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়াঝনা।
১০৬. যা-লিকা জাঝা-উহুম জাহান্নামু বিমা কাফারূ ওয়াত্তাখাযূ~ আ-য়া-তী ওয়ারুছুলী হুঝূওয়া।
১০৭. ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া ‘আমিলুস সা-লিহা-তি কা-নাত্ লাহুম জান্নাতুল ফিরদাওছি নুঝুলা।
১০৮. খা-লিদীনা ফীহা- লা- ইয়ােবগূনা ‘আনহা হিওয়ালা।
১০৯. কুল ল্বাও কা-নাল বাহরু মিদা-দাল লিকালিমা-তি রাব্বী লানাফিদাল বাহরু কাবলা আন তানফাদা কালিমা-তু রাব্বী ওয়ালাও জি'না- বিমিছলিহী মাদাদা।
১১০. কুল ইন্নামা~ আনা বাশারুম মিছলুকুম ইউহা~ ইলাইইয়া আন্নামা~ ইলা-হুকুম ইলা-হুঁও ওয়া-হিদ, ফামান কা-না ইয়ারজূ লিকা-আ রাব্বিহী ফালইয়া'মাল ‘আমালান সা-লিহাঁও ওয়ালা- ইউশরিক বি'ইবা-দাতি রাব্বিহী~ আহাদা।
সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াতের বাংলা অনুবাদ
১০১. আমার স্মরণ থেকে যাদের চক্ষু ছিল আবরণে ঢাকা আর তারা শুনতেও সক্ষম ছিল না।
১০২. যারা কুফুরী নীতি গ্রহণ করেছে তারা কি মনে করে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাহদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে? আমি কাফিরদের মেহমানদারির জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত করে রেখেছি।
১০৩. বল, ‘আমি তোমাদেরকে কি সংবাদ দেব নিজেদের ‘আমালের ক্ষেত্রে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?’
১০৪. তারা হল সে সব লোক দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা সাধনা ব্যর্থ হয়ে গেছে আর তারা নিজেরা মনে করছে যে, তারা সঠিক কাজই করছে।
১০৫. তারা হল সে সব লোক যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শন ও তাঁর সাথে সাক্ষাৎকে অমান্য করে। যার ফলে তাদের যাবতীয় ‘আমাল নিস্ফল হয়ে গেছে। কিয়ামাতের দিন আমি তাদের (কাজের) জন্য কোন ওজন কায়িম করব না (অর্থাৎ তাদের এ সব ‘আমাল ওজনযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হবে না)।
১০৬. এটাই তাদের প্রতিফল-জাহান্নাম, কারণ তারা কুফুরী করেছে আর আমার নিদর্শন ও রসূলদেরকে হাসি-তামাশার বিষয় বানিয়েছে।
১০৭. যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে তাদের আপ্যায়নের জন্য আছে ফিরদাউসের বাগান।
১০৮. সেখানে তারা স্থায়ী হয়ে থাকবে, সেখান থেকে বের হয়ে আর অন্যত্র যেতে চাইবে না।
১০৯. বল, ‘সমুদ্রগুলো যদি আমার প্রতিপালকের কথা লেখার জন্য কালি হয়ে যায়, তবে আমার প্রতিপালকের কথা লেখা শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র অবশ্যই নিঃশেষ হয়ে যাবে, আমি যদি এর সাহায্যের জন্য আরো অনুরূপ পরিমাণ সমুদ্র নিয়ে আসি তবুও।’
১১০. বল, ‘আমি তোমাদেরই মত একজন মানুষ, আমার নিকট ওয়াহী করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ। কাজেই যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাতের আশা করে, সে যেন সৎ ‘আমাল করে আর তার প্রতিপালকের ‘ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে।’
সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াতের PDF ডাউনলোড করুন
আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ সহ অফলাইনে পড়ার জন্য PDF ফাইলটি সংরক্ষণ করুন।
📄 PDF ডাউনলোড পেজে যান (Free)সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াতের ফজিলত
পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় একটি অধ্যায় হলো সূরা কাহাফ। বিশেষ করে এই সূরার শেষ ১০টি আয়াতের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস শরিফে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিচে এর প্রধান প্রধান ফজিলতসমূহ তুলে ধরা হলো:
- দাজ্জালের ফেতনা থেকে মুক্তি: আখেরী জামানার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ও ফেতনা হলো দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের শেষ ১০টি আয়াত মুখস্থ করবে বা নিয়মিত তিলওয়াত করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে দাজ্জালের সর্বনাশা ফেতনা থেকে নিরাপদ রাখবেন।
- ঈমানের ওপর অবিচল থাকার মাধ্যম: শেষ ১০টি আয়াতে তাওহীদ, আখেরাত এবং খাঁটি ঈমানের কথা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো নিয়মিত অনুধাবনসহ পাঠ করলে ঈমান মজবুত হয় এবং যাবতীয় শিরক ও পথভ্রষ্টতা থেকে বাঁচা সহজ হয়।
- জান্নাতুল ফেরদাউসের সুসংবাদ: এই আয়াতগুলোতে খাঁটি ঈমানদার ও সৎকর্মশীলদের জন্য জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমানদারির সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, যা মুমিনের অন্তরকে নেক আমলের প্রতি উৎসাহিত করে।
- জুমুআর দিনের বিশেষ আমল: জুমুআর দিনে পুরো সূরা কাহাফ পাঠ করার পাশাপাশি বিশেষ করে এর প্রথম ও শেষ ১০টি আয়াত তিলওয়াত করা সুন্নত এবং অত্যধিক সওয়াবের কাজ।
সুতরাং, আমাদের প্রত্যেকের উচিত সূরা কাহাফের শেষ ১০টি আয়াত সহীহ-শুদ্ধভাবে মুখস্থ করা, নিয়মিত তিলওয়াত করা এবং এর গভীর অর্থ অনুধাবন করে নিজেদের জীবনকে পরিচালনা করা।
কুরআন ও হাদিসের তথ্যসূত্র
- কুরআন: সূরা আল-কাহাফ (১৮ নম্বর সূরা), আয়াত ১০১-১১০ (পারা ১৫-১৬)।
- হাদিস রেফারেন্স:
- দাজ্জাল থেকে রক্ষা পাওয়ার ফজিলত: সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ৮০৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪৩২৩; জামে আত-তিরমিযী, হাদিস নং: ২৮৮৬ (নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম বা শেষ ১০ আয়াত পাঠ/মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা পাবে)।
- জুমুআর দিনের আমল ও নূরের উজ্জ্বলতা: সুনানে আল-কুবরা (নাসায়ী), হাদিস নং: ১০৭৯০; মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস নং: ৩৩৯২ (সহীহ সনদে বর্ণিত, যে ব্যক্তি জুমুআর দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমুআর মধ্যবর্তী সময় নূরে উদ্ভাসিত হয়ে থাকবে)।
সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াত কখন পড়বেন?
| সময় | আমল ও ফজিলত |
|---|---|
| সকাল | দিনের শুরুতে ইবাদতের মানসিকতা তৈরি ও সারাদিন যাবতীয় ফেতনা থেকে হেফাজতে থাকার নিয়তে পাঠ করা উত্তম। |
| সন্ধ্যা | রাতের সূচনায় ঈমানের ওপর অবিচল থাকার এবং আল্লাহর রহমত ও নিরাপত্তা লাভের উদ্দেশ্যে তিলওয়াত করা যায়। |
| ঘুমানোর আগে | ঘুমানোর পূর্বে তিলওয়াত করলে রাতে আত্মিক শান্তি লাভ হয় এবং তাহাজ্জুদের সময় জাগরণে সাহায্য পাওয়া যায় বলে তাবেঈদের আমল থেকে বর্ণিত রয়েছে। |
| নামাজের পরে | ফরজ বা নফল নামাজের পর বিশেষ করে জুমুআর দিনে নফল ইবাদত হিসেবে এই বরকতময় আয়াতগুলো তিলওয়াত করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। |
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াত পাঠ করলে কি দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহীহ হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের শেষ ১০টি আয়াত মুখস্থ করবে বা তিলওয়াত করবে, সে শেষ জামানার সবচেয়ে বড় ফেতনা দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ ও তার সর্বনাশা প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে।
২. প্রথম ১০ আয়াত নাকি শেষ ১০ আয়াত—কোনটি পড়া বেশি উত্তম?
হাদিসে প্রথম ১০ আয়াত এবং শেষ ১০ আয়াত—উভয়টি সম্পর্কেই দাজ্জাল থেকে নিরাপত্তার সুসংবাদ এসেছে। তাই সম্ভব হলে প্রথম ও শেষ ১০ আয়াত উভয়টি অথবা পুরো সূরাটিই তিলওয়াত করা সবচেয়ে উত্তম।
৩. কেবল জুমুআর দিনেই কি সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াত পড়তে হবে?
জুমুআর দিনে পুরো সূরা কাহাফ পাঠ করার বিশেষ সুন্নাত রয়েছে। তবে সপ্তাহের যেকোনো দিন বা প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ও ঘুমানোর আগে এই ১০টি আয়াত নিয়মিত আমল করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
৪. শেষ ১০ আয়াত পড়ার পাশাপাশি অর্থ ও ব্যাখ্যা বোঝা কেন জরুরি?
সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াতে ঈমান, আখেরাত, আমলের নিষ্ফলতা এবং জান্নাতুল ফেরদাউসের স্পষ্ট বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। অর্থ বুঝে পড়লে অন্তর নরম হয়, শিরক থেকে বেঁচে থাকা যায় এবং আমলের আগ্রহ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
৫. আমি কি আরবি দেখে পড়া না জানলে কেবল বাংলা অনুবাদ ও উচ্চারণ পড়ে সওয়াব পাব?
অনুবাদ পড়া থেকে কোরআনের শিক্ষা ও শিক্ষালাভের সওয়াব পাওয়া যাবে, তবে বিশুদ্ধ আরবি তিলওয়াতের যে স্বতন্ত্র সওয়াব (প্রতি হরফে ১০ নেকি) তা পাওয়ার জন্য আরবি পাঠ শেখা জরুরি। তাই উচ্চারণের সাহায্যে পড়ার পাশাপাশি সহীহ আরবি শেখার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত।
সম্পর্কিত পোস্ট
- সূরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াতের বাংলা উচ্চারণ, অনুবাদ ও ফজিলত।
- সূরা আন-নাস বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ সহ তফসির।
- সূরা ফালাক এর আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
উপসংহার
সূরা কাহাফ কেবল তিলওয়াতের জন্য নয়, বরং এটি প্রতিটি মুমিনের জীবনের জন্য এক অনন্য দিকনির্দেশনা। বিশেষ করে এর শেষ ১০টি আয়াতে তাওহীদের সারমর্ম, দাজ্জালের ভয়াবহ ফেতনা থেকে বাঁচার উপায় এবং জান্নাতুল ফেরদাউস লাভের পথ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই ১০টি আয়াত নিয়মিত তিলওয়াত করা, সঠিকভাবে মুখস্থ করা এবং এর বাণী জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সূরা কাহাফের আলোতে জীবন গড়ার এবং আখেরাতের সর্বপ্রকার ফেতনা থেকে হেফাজতে থাকার তৌফিক দান করুন—আমীন।