পবিত্র কুরআনের ৬৭তম সূরা হলো 'সূরা আল-মূলক'। ৩০ আয়াত বিশিষ্ট এই মাক্কী সূরাটি কুরআনের ২৯ নম্বর পারায় অবস্থিত। 'মূলক' শব্দের অর্থ 'রাজত্ব' বা 'সার্বভৌম ক্ষমতা'। প্রতি রাতে এই সূরাটি পাঠ করা কবরের আজাব থেকে মুক্তির অনন্য মাধ্যম ও ঢালস্বরূপ। নিচে সূরা আল-মূলক এর আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অনুবাদ ও বিশেষ ফজিলত বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
সূচিপত্র
- সূরা মূলক সম্পর্কে কিছু কথা।
- সূরা মূলক আরবি
- সূরা মূলক বাংলা উচ্চারণ
- সূরা মূলক বাংলা অর্থ
- সূরা মূলক এর PDF ডাউনলোড
- সূরা মূলক এর ফজিলত
- সূরা মূলক কখন পড়বেন?
- FAQ
সূরা মূলক সম্পর্কে কিছু কথা।
সূরা আল-মূলকের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য: সূরা আল-মূলকে আল্লাহ তাআলার অসীম ক্ষমতা, বিশ্বজগতের নিখুঁত সৃষ্টি, জীবন-মৃত্যুর উদ্দেশ্য এবং পরকালের কঠিন বাস্তবতার চিত্র অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। হাদিস শরীফে এই সূরাটিকে 'মানিআহ' (আজাব প্রতিরোধকারী) এবং 'মুনজিয়াহ' (মুক্তিদানকারী) নামে অভিহিত করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি রাতে ঘুমানোর পূর্বে এই সূরাটি তিলাওয়াত করতেন। যে ব্যক্তি নিয়মিত রাতে সূরা মূলক পাঠ করবে, এই সূরাটি কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহর দরবারে তার ক্ষমার জন্য সুপারিশ করবে এবং কবরের ভয়াবহ শাস্তি থেকে তাকে রক্ষা করবে।
সূরা মূলক আরবি
تَبٰرَكَ الَّذِیۡ بِیَدِهِ الۡمُلۡكُ ۫ وَ هُوَ عَلٰی كُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرُۨ ۙ﴿۱﴾
الَّذِیۡ خَلَقَ الۡمَوۡتَ وَ الۡحَیٰوۃَ لِیَبۡلُوَكُمۡ اَیُّكُمۡ اَحۡسَنُ عَمَلًا ؕ وَ هُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡغَفُوۡرُ ۙ﴿۲﴾
الَّذِیۡ خَلَقَ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ طِبَاقًا ؕ مَا تَرٰی فِیۡ خَلۡقِ الرَّحۡمٰنِ مِنۡ تَفٰوُتٍ ؕ فَارۡجِعِ الۡبَصَرَ ۙ هَلۡ تَرٰی مِنۡ فُطُوۡرٍ ﴿۳﴾
ثُمَّ ارۡجِعِ الۡبَصَرَ كَرَّتَیۡنِ یَنۡقَلِبۡ اِلَیۡكَ الۡبَصَرُ خَاسِئًا وَّ هُوَ حَسِیۡرٌ ﴿۴﴾
وَ لَقَدۡ زَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡیَا بِمَصَابِیۡحَ وَ جَعَلۡنٰهَا رُجُوۡمًا لِّلشَّیٰطِیۡنِ وَ اَعۡتَدۡنَا لَهُمۡ عَذَابَ السَّعِیۡرِ ﴿۵﴾
وَ لِلَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا بِرَبِّهِمۡ عَذَابُ جَهَنَّمَ ؕ وَ بِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ ﴿۶﴾
اِذَاۤ اُلۡقُوۡا فِیۡهَا سَمِعُوۡا لَهَا شَهِیۡقًا وَّ هِیَ تَفُوۡرُ ۙ﴿۷﴾
تَكَادُ تَمَیَّزُ مِنَ الۡغَیۡظِ ؕ كُلَّمَاۤ اُلۡقِیَ فِیۡهَا فَوۡجٌ سَاَلَهُمۡ خَزَنَتُهَاۤ اَلَمۡ یَاۡتِكُمۡ نَذِیۡرٌ ﴿۸﴾
قَالُوۡا بَلٰی قَدۡ جَآءَنَا نَذِیۡرٌ ۬ۙ فَكَذَّبۡنَا وَ قُلۡنَا مَا نَزَّلَ اللّٰهُ مِنۡ شَیۡءٍ ۚۖ اِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا فِیۡ ضَلٰلٍ كَبِیۡرٍ ﴿۹﴾
وَ قَالُوۡا لَوۡ كُنَّا نَسۡمَعُ اَوۡ نَعۡقِلُ مَا كُنَّا فِیۡۤ اَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ ﴿۱۰﴾
فَاعۡتَرَفُوۡا بِذَنۡۢبِهِمۡ ۚ فَسُحۡقًا لِّاَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ ﴿۱۱﴾
اِنَّ الَّذِیۡنَ یَخۡشَوۡنَ رَبَّهُمۡ بِالۡغَیۡبِ لَهُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّ اَجۡرٌ كَبِیۡرٌ ﴿۱۲﴾
وَ اَسِرُّوۡا قَوۡلَكُمۡ اَوِ اجۡهَرُوۡا بِهٖ ؕ اِنَّهٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ﴿۱۳﴾
اَلَا یَعۡلَمُ مَنۡ خَلَقَ ؕ وَ هُوَ اللَّطِیۡفُ الۡخَبِیۡرُ ﴿۱۴﴾
هُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ لَكُمُ الۡاَرۡضَ ذَلُوۡلًا فَامۡشُوۡا فِیۡ مَنَاكِبِهَا وَ كُلُوۡا مِنۡ رِّزۡقِهٖ ؕ وَ اِلَیۡهِ النُّشُوۡرُ ﴿۱۵﴾
ءَاَمِنۡتُمۡ مَّنۡ فِی السَّمَآءِ اَنۡ یَّخۡسِفَ بِكُمُ الۡاَرۡضَ فَاِذَا هِیَ تَمُوۡرُ ﴿ۙ۱۶﴾
اَمۡ اَمِنۡتُمۡ مَّنۡ فِی السَّمَآءِ اَنۡ یُّرۡسِلَ عَلَیۡكُمۡ حَاصِبًا ؕ فَسَتَعۡلَمُوۡنَ كَیۡفَ نَذِیۡرِ ﴿۱۷﴾
وَ لَقَدۡ كَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ فَكَیۡفَ كَانَ نَكِیۡرِ ﴿۱۸﴾
اَوَ لَمۡ یَرَوۡا اِلَی الطَّیۡرِ فَوۡقَهُمۡ صٰٓفّٰتٍ وَّ یَقۡبِضۡنَ ؔۘؕ مَا یُمۡسِكُهُنَّ اِلَّا الرَّحۡمٰنُ ؕ اِنَّهٗ بِكُلِّ شَیۡءٍۭ بَصِیۡرٌ ﴿۱۹﴾
اَمَّنۡ هٰذَا الَّذِیۡ هُوَ جُنۡدٌ لَّكُمۡ یَنۡصُرُكُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ الرَّحۡمٰنِ ؕ اِنِ الۡكٰفِرُوۡنَ اِلَّا فِیۡ غُرُوۡرٍ ﴿ۚ۲۰﴾
اَمَّنۡ هٰذَا الَّذِیۡ یَرۡزُقُكُمۡ اِنۡ اَمۡسَكَ رِزۡقَهٗ ۚ بَلۡ لَّجُّوۡا فِیۡ عُتُوٍّ وَّ نُفُوۡرٍ ﴿۲۱﴾
اَفَمَنۡ یَّمۡشِیۡ مُكِبًّا عَلٰی وَجۡهِهٖۤ اَهۡدٰۤی اَمَّنۡ یَّمۡشِیۡ سَوِیًّا عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ﴿۲۲﴾
قُلۡ هُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡشَاَكُمۡ وَ جَعَلَ لَكُمُ السَّمۡعَ وَ الۡاَبۡصَارَ وَ الۡاَفۡـِٕدَۃَ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَشۡكُرُوۡنَ ﴿۲۳﴾
قُلۡ هُوَ الَّذِیۡ ذَرَاَكُمۡ فِی الۡاَرۡضِ وَ اِلَیۡهِ تُحۡشَرُوۡنَ ﴿۲۴﴾
وَ یَقُوۡلُوۡنَ مَتٰی هٰذَا الۡوَعۡدُ اِنۡ كُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ﴿۲۵﴾
قُلۡ اِنَّمَا الۡعِلۡمُ عِنۡدَ اللّٰهِ ۪ وَ اِنَّمَاۤ اَنَا نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ﴿۲۶﴾
فَلَمَّا رَاَوۡهُ زُلۡفَۃً سِیۡٓـَٔتۡ وُجُوۡهُ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا وَ قِیۡلَ هٰذَا الَّذِیۡ كُنۡتُمۡ بِهٖ تَدَّعُوۡنَ ﴿۲۷﴾
قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ اَهۡلَكَنِیَ اللّٰهُ وَ مَنۡ مَّعِیَ اَوۡ رَحِمَنَا ۙ فَمَنۡ یُّجِیۡرُ الۡكٰفِرِیۡنَ مِنۡ عَذَابٍ اَلِیۡمٍ ﴿۲۸﴾
قُلۡ هُوَ الرَّحۡمٰنُ اٰمَنَّا بِهٖ وَ عَلَیۡهِ تَوَكَّلۡنَا ۚ فَسَتَعۡلَمُوۡنَ مَنۡ هُوَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ﴿۲۹﴾
قُلۡ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ اَصۡبَحَ مَآؤُكُمۡ غَوۡرًا فَمَنۡ یَّاۡتِیۡكُمۡ بِمَآءٍ مَّعِیۡنٍ ﴿۳۰﴾
সূরা মূলক বাংলা উচ্চারণ
- তাবা-রকাল্লাযী বিইয়াদিহিল্ মুল্কু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন্ ক্বদীরু।
- আল্লাযী খলাক্বল্ মাউতা ওয়াল হাইয়া-তা লিইয়াব্লুওয়াকুম্ আইয়্যুকুম্ আহ্সানু ‘আমালা-; ওয়া হুওয়াল্ ‘আযীযুল্ গফূরু।
- আল্লাযী খলাক্ব সাব্‘আ সামা-ওয়া-তিন্ ত্বিবা-ক্ব-; মা-তার-ফী খাল্কির রহমা-নি মিন্ তাফা-উত; ফারজিইল বাসরা হাল্ তার-মিন্ ফুত্বুর।
- ছুম্মা রজি‘ইল্ বাছারা র্কাতাইনি ইয়ান্ক্বলিব্ ইলাইকাল্ বাছারু খ-সিআঁও ওহুওয়া হাসীর।
- অলাক্বদ্ যাইয়্যান্নাস্ সামা-য়াদ্ দুন্ইয়া- বিমাছা-বীহা অজ্বা‘আল্নাহা- রুজুমাল্ লিশ্শাইয়াত্বীনি অআ‘তাদ্না- লাহুম্ ‘আযা-বাস্ সাঈর।
- অলিল্লাযীনা কাফারূ বিরব্বিহিম্ ‘আযা-বু জ্বাহান্নাম্; অবিসাল্ মাসীর।
- ইযা উল্ক্বু ফীহা- সামি‘ঊ লাহা- শাহীক্বঁও অহিয়া তাফূর।
- তাকা-দু তামাইয়্যাযু মিনাল্ গাইজ্; কুল্লামা উল্ক্বিয়া ফীহা- ফাওজুন্ সায়ালাহুম্ খাযানাতুহা আলাম্ ইয়াতিকুম্ নাযীর।
- ক্ব-লূ বালা- ক্বদ্ জ্বা-য়ানা নাযীরুন্ ফাকায্যাব্না- অকুল্না- মা- নায্যালাল্লা-হু মিন্ শাইয়িন্ ইন্ আন্তুম্ ইল্লা- ফী দ্বোয়ালা-লিন্ কাবীর।
- অক্ব-লূ লাও কুন্না নাস্মা‘ঊ আও না’ক্বিলু মা- কুন্না ফী আছ্হা-বিস্ সাঈর।
- ফা’তারাফূ বিযাম্বিহিম্ ফাসুহ্ক্বল্ লিআছ্হা-বিস্ সাঈর।
- ইন্নাল্লাযীনা ইয়াখ্শাওনা রব্বাহুম্ বিল্গইবি লাহুম্ মাগ্ফিরতুঁও অআজরুন্ কাবীর।
- অআর্সিরূ ক্বওলাকুম্ আওয়িজহারূ বিহ্; ইন্নাহূ ‘আলীমুম্ বিযা-তিচ্ছ উদূর।
- আলা- ইয়াল্লামু মান্ খলাক; অহুওয়াল্ লাত্বীফুল্ খাবীর।
- হুওয়াল্লাযী জ্বা‘আলা লাকুমুল্ আর্দ্বো যালূলান্ ফাম্শূ ফী মানা-কিবিহা- অকুলূ মির্ রিয্ক্বিহ্; অইলাইহিন্ নুশূর।
- আ আমিন্তুম্ মান্ ফিস্ সামা-য়ি আইঁয়্যাখ্সিফা বিকুমুল্ আর্দ্বো ফা ইযা- হিয়া তামূর।
- আম্ আমিন্তুম্ মান্ ফিস্ সামা-য়ি আইঁ ইর্য়ুসিলা ‘আলাইকুম্ হা-ছিবা-; ফাসাতা’লামূনা কাইফা নাযীর।
- অলাক্বদ্ কায্যাবাল্ লাযীনা মিন্ ক্বব্লিহিম্ ফাকাইফা কা-না নাকীর।
- আওয়া লাম্ ইয়ারও ইলাতত্বোয়াইরি ফাওক্বহুম্ ছোয়া-ফ্ফা-তিঁও অইয়াক্ববিদন্; মা ইয়ুম্সিকুহুন্না ইল্লার রহ্মা-ন্; ইন্নাহূ বিকুল্লি শাইয়িম্ বাছীর।
- আম্মান্ হা-যাল্ লাযী হুওয়া জুন্দুল্ লাকুম্ ইয়ান্ছুরুকুম্ মিন্ দূনির্ রহ্মা-ন্; ইনিল্ কা-ফিরূনা ইল্লা- ফী গুরূর।
- আম্মান্ হা-যাল্ লাযী ইর্য়াযুকুকুম্ ইন্ আম্সাকা রিয্ক্বাহূ বাল্ লাজ্জূ ফী ‘উতুয়িঁও ওনুফূর।
- আফামাইঁ ইয়াম্শী মুকিব্বান ‘আলা- ওয়াজহিহী আহ্দা আম্মাইঁ ইয়াম্শী সাওয়িয়্যান ‘আলা- ছিরা-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্।
- কুল্ হুওয়াল্ লাযী আন্ শায়াকুম্ অজ্বা‘আলা লাকুমুস্ সাম্‘আ অল্ আব্ছা-র অল্ আফ্য়িদাহ্; ক্বলীলাম্ মা- তাশ্কুরূন্।
- কুল্ হুওয়াল্ লাযী যারয়াকুম্ ফিল্ আর্দ্বি অইলাইহি তুহ্শারূন্।
- অইয়াকুলূনা মাতা- হা-যাল্ ওয়া’দু ইন্ কুনতুম ছোয়া-দিক্বীন।
- কুল ইন্নামাল্ ই’ল্মু ই’ন্দাল্লা-হি অইন্নামা আনা নাযীরুম্ মুবীন।
- ফালাম্মা- রায়াওহু যুল্ফাতান্ সী-য়াত্ উজুহুল্ লাযীনা কাফারূ অক্বীলা হা-যাল্ লাযী কুন্তুম্ বিহী তাদ্দা‘ঊন্।
- কুল্ আরয়াইতুম্ ইন্ আহ্লাকানিয়াল্লা-হু অমাম্ মা’ইয়া আও রহিমানা- ফামাইঁ ইয়ুজ্বীরুল্ কা-ফিরীনা মিন্ ‘আযা-বিন্ আলীম্।
- কুল্ হুওয়ার রহ্মা-নু আ-মান্না- বিহী অ‘আলাইহি তাওয়াক্কাল্না- ফাসাতা’লামূনা মান্ হুওয়া ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।
- কুল্ আরায়াইতুম্ ইন্ আছ্বাহা মা-য়ুকুম্ গওরন্ ফামাইঁ ইয়া’তীকুম্ বিমা-য়িম্ মা‘ঈন্।
সূরা মূলক বাংলা অর্থ
- বরকতময় তিনি যার হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব। আর তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
- যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল।
- যিনি সাত আসমান স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোন অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তুমি আবার দৃষ্টি ফিরাও, কোন ত্রুটি দেখতে পাও কি?
- অতঃপর তুমি দৃষ্টি ফিরাও একের পর এক, সেই দৃষ্টি অবনমিত ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।
- আমি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপপুঞ্জ দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপের বস্তু বানিয়েছি। আর তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের আযাব।
- আর যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আযাব। আর কতইনা নিকৃষ্ট সেই প্রত্যাবর্তনস্থল!
- যখন তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার বিকট শব্দ শুনতে পাবে। আর তা উথলিয়ে উঠবে।
- ক্রোধে তা ছিন্ন-ভিন্ন হবার উপক্রম হবে। যখনই তাতে কোন দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার প্রহরীরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের নিকট কি কোন সতর্ককারী আসেনি’?
- তারা বলবে, ‘হ্যাঁ, আমাদের নিকট সতর্ককারী এসেছিল। তখন আমরা (তাদেরকে) মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করেছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা তো ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছ’।
- আর তারা বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না’।
- অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য।
- নিশ্চয় যারা তাদের রবকে না দেখেই ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।
- আর তোমরা তোমাদের কথা গোপন কর অথবা তা প্রকাশ কর, নিশ্চয় তিনি অন্তরসমূহে যা আছে সে বিষয়ে সম্যক অবগত।
- যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, পূর্ণ অবহিত।
- তিনিই তো তোমাদের জন্য যমীনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর রিয্ক থেকে তোমরা আহার কর। আর তাঁর নিকটই পুনরুত্থান।
- যিনি আসমানে আছেন,* তিনি তোমাদের সহ যমীন ধসিয়ে দেয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ, অতঃপর আকস্মিকভাবে তা থর থর করে কাঁপতে থাকবে?
- যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের উপর পাথর নিক্ষেপকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠানো থেকে তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ, তখন তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী?
- আর অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীরাও অস্বীকার করেছিল। ফলে কেমন ছিল আমার প্রত্যাখ্যান (এর শাস্তি)?
- তারা কি লক্ষ্য করেনি তাদের উপরস্থ পাখিদের প্রতি, যারা ডানা বিস্তার করে ও গুটিয়ে নেয়? পরম করুণাময় ছাড়া অন্য কেউ এদেরকে স্থির রাখে না। নিশ্চয় তিনি সব কিছুর সম্যক দ্রষ্টা।
- পরম করুণাময় ছাড়া তোমাদের কি আর কোন সৈন্য আছে, যারা তোমাদেরকে সাহায্য করবে ? কাফিররা শুধু তো ধোঁকায় নিপতিত।
- অথবা এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে রিয্ক দান করবে যদি আল্লাহ তাঁর রিয্ক বন্ধ করে দেন? বরং তারা অহমিকা ও অনীহায় নিমজ্জিত হয়ে আছে।
- যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখের উপর ভর দিয়ে চলে সে কি অধিক হিদায়াতপ্রাপ্ত নাকি সেই ব্যক্তি যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে ?
- বল, ‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তকরণসমূহ দিয়েছেন। তোমরা খুব অল্পই শোকর কর’।
- বল, ‘তিনিই তোমাদেরকে যমীনে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে সমবেত করা হবে’।
- আর তারা বলে, ‘সে ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।
- বল, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহরই নিকট। আর আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র’।
- অতঃপর তারা যখন তা* আসন্ন দেখতে পাবে, তখন কাফিরদের চেহারা মলিন হয়ে যাবে এবং বলা হবে, ‘এটাই হল তা, যা তোমরা দাবী করছিলে’।
- বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি’? যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সাথে যারা আছে, তাদেরকে ধ্বংস করে দেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তাহলে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব থেকে কে রক্ষা করবে’?
- বল, ‘তিনিই পরম করুণাময়। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করেছি। কাজেই তোমরা অচিরেই জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে’?
- বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদেরকে বহমান পানি এনে দিবে’ ?
সূরা মূলক এর PDF ডাউনলোড করুন
আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ সহ অফলাইনে পড়ার জন্য PDF ফাইলটি সংরক্ষণ করুন।
📄 PDF ডাউনলোড পেজে যান (Free)সূরা মূলক এর ফজিলত
সূরা আল-মূলক পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ একটি সূরা। নিয়মিত এই সূরা তিলাওয়াত করার প্রধান ফজিলত হলো— এটি বান্দাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করে এবং কিয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর পক্ষে আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করে তাকে ক্ষমা করিয়ে দেয়। নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি রাতে ঘুমানোর পূর্বে এই সূরাটি নিয়মিত তিলাওয়াত করতেন।
কুরআন ও হাদিসের তথ্যসূত্র
- কুরআন: সূরা আল-মূলক পবিত্র কুরআনের ৬৭তম সূরা (পারা: ২৯, মোট আয়াত: ৩০)।
- হাদিস reference:
- ক্ষমা ও শাফায়াত লাভ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "কুরআনে ৩০ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে, যা পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করতে থাকে যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হয়। সূরাটি হলো— 'তাবারাকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মূলক'।" — (সুনানে আবু দাউদ: ১৪০০, জামে আত-তিরমিযী: ২৮৯১)
- কবরের আজাব থেকে সুরক্ষা: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "সূরা মূলক হলো কবরের আজাব থেকে রক্ষাকারী (আল-মানি'আহ)।" — (সুনান আন-নাসায়ী, মুস্তাদরাকে হাকিম: ৩৮৯২)
- প্রতি রাতে তিলাওয়াতের সুন্নাত: হযরত জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূরা আলিফ-লাম-মীম সেজদাহ এবং সূরা আল-মূলক তিলাওয়াত না করে রাতে ঘুমাতেন না। — (জামে আত-তিরমিযী: ২৮৯২)
সূরা মূলক কখন পড়বেন?
| সময় | আমল ও ফজিলত |
|---|---|
| সকাল | সকালের আমল বা কুরআন তিলাওয়াতের অংশ হিসেবে সূরা মূলক পাঠ করলে সারাদিন আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভ হয় এবং প্রতিটি হরফের জন্য ১০টি করে নেকি অর্জিত হয়। |
| সন্ধ্যা | মাগরিব বা এশার পর সন্ধ্যা কিংবা রাতের শুরুতে তিলাওয়াত করলে আত্মিক প্রশান্তি পাওয়া যায় এবং রাতের বিশেষ ইবাদতের জন্য মানসিক প্রস্তুতি সহজ হয়। |
| ঘুমানোর আগে (সর্বোত্তম সময়) | এটি সুন্নাত সম্মত প্রধান সময়। প্রতি রাতে শোবার আগে তিলাওয়াত করা রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিত্যদিনের অভ্যাস ছিল। এটি পাঠকারীকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করে এবং শাফায়াত লাভে সাহায্য করে। |
| নামাজের পরে | যেকোনো ফরজ নামাজের পর (বিশেষ করে মাগরিব বা এশার পর) এটি তিলাওয়াত করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এতে আমলে বরকত হয় এবং অন্তরে প্রশান্তি আসে। |
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. সূরা মূলক পড়ার প্রধান ফজিলত কী?
সূরা মূলক তিলাওয়াতের প্রধান ফজিলত হলো এটি পাঠকারীকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করে। এছাড়া কিয়ামতের দিন এই সূরাটি তিলাওয়াতকারীর পক্ষে আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে এবং তাকে ক্ষমা না করা পর্যন্ত সুপারিশ চালিয়ে যাবে।
২. সূরা মূলক পড়ার সবচেয়ে উত্তম সময় কোনটি?
সূরা মূলক পড়ার সবচেয়ে উত্তম ও সুন্নাত সম্মত সময় হলো প্রতি রাতে ঘুমানোর পূর্বে। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে এই সূরা তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না।
৩. মুখস্থ না থাকলে কি দেখে দেখে বা মোবাইল থেকে পড়া যাবে?
হ্যাঁ, অবশ্যই পড়া যাবে। দেখে দেখে, পবিত্র কুরআন শরিফ থেকে কিংবা মোবাইলের স্ক্রিন দেখে তিলাওয়াত করলেও পূর্ণ সওয়াব ও ফজিলত লাভ করা যাবে।
৪. সূরা মূলককে 'আল-মানিআহ' বা প্রতিরোধকারী বলা হয় কেন?
হাদিস শরিফে এই সূরাকে 'আল-মানিআহ' (রক্ষাকবচ বা প্রতিরোধকারী) বলা হয়েছে, কারণ নিয়মিত এটি তিলাওয়াত করলে তা বান্দাকে কবরের কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করে।
৫. সূরা মূলক তিলাওয়াত করা কি ফরজ নাকি সুন্নাত?
প্রতি রাতে সূরা মূলক তিলাওয়াত করা একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সুন্নাত ও মুস্তাহাব আমল। নিয়মিত এই আমল করলে আল্লাহর রহমত ও কবরের আজাব থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
সম্পর্কিত পোস্ট
- সূরা ফালাক এর আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
- সূরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াতের বাংলা উচ্চারণ, অনুবাদ ও ফজিলত।
- সূরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াতের বাংলা উচ্চারণ, অনুবাদ ও ফজিলত।
- সূরা আন-নাস বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ সহ তফসির।
উপসংহার
সূরা আল-মূলক কেবল তিলাওয়াতের জন্যই নয়, বরং এর গম্ভীর বার্তা অনুধাবন ও আল্লাহর অসীম কুদরতের কথা স্মরণ করার জন্য এক অন্যতম মাধ্যম। প্রতি রাতে ঘুমানোর পূর্বে নিয়মিত এই সূরা তিলাওয়াত করার অভ্যাস গড়ে তোলা আমাদের পরকালের সফরকে সহজ করবে এবং কবরের আজাব থেকে সুরক্ষার শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে। তাই আসুন, আমরা নিয়মিত এই মহান সূরার তিলাওয়াতকে আমাদের দৈনিক আমলের অংশ বানিয়ে নিই এবং মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও ক্ষমা লাভ করি।