সূরা আন-নাসর পবিত্র কুরআনের ১১০তম সূরা, যা মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এতে ৩টি আয়াত রয়েছে। 'আন-নাসর' শব্দের অর্থ সাহায্য বা বিজয়। এই সুমহান সূরায় ইসলাম ও মুসলমানদের চূড়ান্ত বিজয় এবং দলে দলে মানুষের সত্য দ্বীনে প্রবেশের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। নিচে সূরা আন-নাসর এর আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত দেওয়া হলো।
সূচিপত্র
- সূরা আন-নাসর সম্পর্কে কিছু কথা।
- সূরা আন-নাসর আরবি
- সূরা আন-নাসর বাংলা উচ্চারণ
- সূরা আন-নাসর বাংলা অর্থ
- সূরা আন-নাসর PDF ডাউনলোড
- সূরা আন-নাসর এর ফজিলত
- সূরা আন-নাসর কখন পড়বেন?
- FAQ
সূরা আন-নাসর সম্পর্কে কিছু কথা।
সূরা আন-নাসর পবিত্র কুরআনের অবতীর্ণ হওয়া শেষ পূর্ণাঙ্গ সূরা, যা দ্বীনে ইসলামের পরিপূর্ণতা ও সাফল্য অর্জনের নির্দেশক। যেকোনো সাফল্য বা অর্জনের পর অহংকার পরিহার করে আল্লাহর তসবিহ পাঠ ও ইস্তিগফারের অনন্য দিকনির্দেশনা রয়েছে এতে। প্রতিটি মুমিনের জীবনে বিনয় ও রবের প্রতি শুকরিয়া আদায়ের বার্তা দেয় এই সূরা। নিচে সূরা আন-নাসরের আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অনুবাদ ও ফজিলত দেওয়া হলো।
সূরা আন-নাসর আরবি
اِذَا جَآءَ نَصۡرُ اللّٰهِ وَ الۡفَتۡحُ ۙ﴿۱﴾
وَ رَاَیۡتَ النَّاسَ یَدۡخُلُوۡنَ فِیۡ دِیۡنِ اللّٰهِ اَفۡوَاجًا ۙ﴿۲﴾
فَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّكَ وَ اسۡتَغۡفِرۡهُ ؕؔ اِنَّهٗ كَانَ تَوَّابًا ﴿۳﴾
সূরা আন-নাসর বাংলা উচ্চারণ
- ইযা-জাআ নাসরুল্লা-হি ওয়াল ফাতহ।
- ওয়ারাআইতান্না-ছা ইয়াদখুলূনা ফী দীনিল্লা-হি আফওয়া-জা-।
- ফাছাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ওয়াছতাগফিরহু, ইন্নাহূ কা-না তাওওয়া-বা-।
সূরা আন-নাসর বাংলা অর্থ
- যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে,
- আর তুমি লোকদেরকে দলে দলে আল্লাহর দীনে দাখিল হতে দেখবে,
- তখন তুমি তোমার রবের সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও নিশ্চয় তিনি তাওবা কবূলকারী।
সূরা আন-নাসর PDF ডাউনলোড করুন
আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ সহ অফলাইনে পড়ার জন্য PDF ফাইলটি সংরক্ষণ করুন।
📄 PDF ডাউনলোড পেজে যান (Free)সূরা আন-নাসর এর ফজিলত
সূরা আন-নাসর পবিত্র কুরআনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় সূরা। এ সূরায় মহান আল্লাহ তাআলা ইসলাম ও মুসলিমদের চূড়ান্ত বিজয়, দৈব সাহায্য এবং দলে দলে মানুষের সত্যদ্বীনে প্রবেশের সুসংবাদ প্রদান করেছেন। যেকোনো সাফল্য বা বিজয়ের পর অহংকার ত্যাগ করে মহান আল্লাহর হামদ (প্রশংসা), তাসবিহ এবং ইস্তিগফারের (ক্ষমা প্রার্থনা) অনন্য শিক্ষা লুকিয়ে রয়েছে এই সুমহান সূরায়।
কুরআন ও হাদিসের তথ্যসূত্র
- কুরআন: সূরা আন-নাসর পবিত্র কুরআনের ১১০তম সূরা (পারা: ৩০, রুকু: ১, আয়াত: ৩, অবতীর্ণের স্থান: মদিনা)। অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমানুসারে এটি পবিত্র কুরআনের অবতীর্ণ হওয়া শেষ পূর্ণাঙ্গ সূরা।
- হাদিস reference:
- কুরআনের এক-চতুর্থাংশ: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "সূরা আন-নাসর তিলাওয়াত করা পবিত্র কুরআনের এক-চতুর্থাংশ (চার ভাগের এক ভাগ) তিলাওয়াতের সমতুল্য।" — (জামে আত-তিরমিযী: ২৮৯৫)
- রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিদায়ের সংকেত: হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, হযরত ওমর (রাঃ) প্রবীণ বদরী সাহাবিদের সভায় এই সূরার ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করলে ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, এটি ছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাত বা ইহধাম ত্যাগের সময়ের সংকেত। ওমর (রাঃ) এই গভীর ব্যাখ্যার পূর্ণ সমর্থন করেন। — (সহীহ বুখারী: ৪৯৭০)
- রুকু ও সেজদায় নিয়মিত দোয়া: হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এই সূরা নাজিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর প্রতিটি সালাতের রুকু ও সেজদায় নিয়মিত পাঠ করতেন: "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী" (হে আল্লাহ! আমাদের রব, আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন)। — (সহীহ বুখারী: ৪৯৬৮, সহীহ মুসলিম: ৪৮৪)
- ক্ষমা ও তওবার তাগিদ: যেকোনো কাজ বা সফলতা অর্জনের পর আল্লাহর কাছে তওবা ও ইস্তিগফার করার চরম শিক্ষণীয় নির্দেশনা রয়েছে এই সূরায়। — (তাফসীরে ইবনে কাসীর)
সূরা আন-নাসর কখন পড়বেন?
| সময় | আমল ও ফজিলত |
|---|---|
| সকাল | দিনের শুরুতে আল্লাহর অশেষ সাহায্য লাভ, সফলতা অর্জন এবং রবের হামদ ও প্রশংসা আদায়ের উদ্দেশ্যে তিলাওয়াত করা উত্তম। |
| সন্ধ্যা | দিনের শেষে মহান আল্লাহর অফুরন্ত নিয়ামতের শুকরিয়া প্রকাশ এবং বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফারের নিয়তে এই সূরা আমল করা যায়। |
| ঘুমানোর আগে | রাতের নফল ও বিতর সালাতে অথবা ঘুমানোর পূর্বে তাসবিহ ও ইস্তিগফারের অংশ হিসেবে এটি তিলাওয়াত করলে মানসিক প্রশান্তি ও সওয়াব অর্জিত হয়। |
| নামাজের পরে | সালাতের যেকোনো রাকাতে এ সূরা তিলাওয়াত করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ; এছাড়া সালাত শেষে অথবা রুকু-সেজদায় আল্লাহর প্রশংসা ও ইস্তিগফারের বিশেষ আমল পূর্ণ হয়। |
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. সূরা আন-নাসর পবিত্র কুরআনের কত নম্বর সূরা এবং এর আয়াত সংখ্যা কত?
সূরা আন-নাসর পবিত্র কুরআনের ১১০তম সূরা। এটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এতে সর্বমোট ৩টি আয়াত রয়েছে।
২. 'আন-নাসর' শব্দের অর্থ কী এবং এই সূরার মূল বিষয়বস্তু কী?
'আন-নাসর' শব্দের অর্থ সাহায্য বা বিজয়। এই সূরায় মহান আল্লাহর দৈব সাহায্যে ইসলামের চূড়ান্ত বিজয়, মক্কা বিজয় এবং মানুষের দলে দলে সত্য দ্বীনে প্রবেশের মহিমান্বিত বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
৩. সূরা আন-নাসর অবতীর্ণ হওয়ার সময়কাল ও প্রেক্ষাপট কী ছিল?
এটি অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমানুসারে পবিত্র কুরআনের শেষ পূর্ণাঙ্গ সূরা। ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের সময় বা বিদায় হজ্জের প্রাক্কালে এটি নাজিল হয়, যা দ্বীনে ইসলামের পরিপূর্ণতা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাত বা ইহধাম ত্যাগের সুসংকেত নির্দেশ করে।
৪. যেকোনো সাফল্য বা বিজয় লাভের পর এই সূরা আমাদের কী শিক্ষা দেয়?
এ সূরার প্রধান শিক্ষা হলো—যেকোনো বড় সাফল্য, জয় বা নিয়ামত অর্জিত হলে অহংকার পরিহার করে মহান আল্লাহর হামদ (প্রশংসা), তাসবিহ পাঠ এবং বিনম্র চিত্তে তাঁর দরবারে তওবা ও ইস্তিগফার করা।
৫. সালাতে এই সূরার আমল সম্পর্কে হাদিসে কী বর্ণনা এসেছে?
এই সূরা অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর প্রতিটি সালাতের রুকু ও সেজদায় নিয়মিত পাঠ করতেন: "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী" (সহীহ বুখারী)।
সম্পর্কিত পোস্ট
- সূরা আল-কাফিরুন এর আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
- সূরা আল-কওসার এর আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
- সূরা ফাতিহা এর আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
- সূরা ইখলাস এর আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
উপসংহার
সূরা আন-নাসর পবিত্র কুরআনের ক্ষুদ্রতম সূরাগুলোর একটি হলেও এর গভীরতা ও তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী। এটি কেবল দ্বীনে ইসলামের ঐতিহাসিক বিজয় ও নিয়ামতের কথা স্মরণ করায় না, বরং জীবনের যেকোনো অর্জনে বিনয়ী থাকা এবং রবের দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের চূড়ান্ত শিক্ষা দেয়। অহংকার পরিহার করে মহান আল্লাহর তসবিহ ও ইস্তিগফারের বার্তা বহনকারী এই সুমহান সূরাটি আমাদের শেখায় যে, সকল সফলতার মূল উৎস মহান আল্লাহ তাআলা। আসুন, আমরা নিয়মিত এ সূরা তিলাওয়াত করি, এর অমূল্য শিক্ষা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়িত করি এবং সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর দরবারে ইস্তিগফার ও তওবার আমল অব্যাহত রাখি।